দৈনিক মতামত

প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম

ইতিহাস

ওমর আল-মুখতার সম্পর্কে জেনে নিন

ওমর আল মুখতার সম্পর্কে জেনে নিন

ওমর আল মুখতার কে বলা হয় লিবিয়ার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা । শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে “মরুভূমির সিংহ” বলা হয় ।
আজ এতবছর পরে এসেও লিবিয়ার সাধারন মানুষ লিবিয়ার এই শ্রেষ্ঠ সন্তান কে ভীষন শ্রদ্ধা করে ।
.
.
১৮৫৮ সালে ২০ আগস্ট লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের যানযুর গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করে ওমর মুখতার । খুব ছোটবেলা তে তার বাবা মারা যান ।
.
ভীষন সংগ্রামী জীবনে তিনি অনেক কাজেই নিজ থেকে করেছেন ।
ছোটবেলা থেকেই পবিত্র কুরআন শরীফের উপর তিনি জ্ঞান লাভ করেন এবং চেষ্টা করতেন কুরআন অনুযায়ী চলতে ।


.
ওমর মুখতার তার জীবনে ব্রিটিশ , ফ্রান্স ও ইতালি এই ৩টি বড় দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে লিবিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন ।
বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশরা , ফরাসি ও ইতালিয়ান শাসকরা লিবিয়াতে যখনেই আক্রমন চালিয়ে ছিল প্রতিবারেই তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন ।
.
.
কিন্তু ১৯১১ সালে যখন ইতালি লিবিয়া আক্রমন করলো এবং লিবিয়া দখলের মাধ্যমে লিবিয়া কে নিজেদের অন্যতম প্রদেশ বলে ঘোষনা করলো ঠিক তখন থেকেই যেন লিবিয়া তে যুদ্ধের সংঘর্ষ বেড়ে যেতে থাকে । ওমর আল মুখতার দীর্ঘ ২০ বছর ইতালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন ।
.
.
ওমর মুখতার একটা সময়ে যখন বুঝতে পারলেন যে ইতালির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখামুখি যুদ্ধে পারবেন না তখন তিনি গেরিলা যুদ্ধ শুরু করলেন । যদিও এর আগে মুখামুখি যুদ্ধ করতে গিয়ে ইতালির সেনাদের সাথে সংঘর্ষে ওমর আল মুখতারের অনেক সহযোদ্ধা মারা যায় তাই তিনি ভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করেন তাও ১৯২৪ সালে ।

ওমর আল মুখতার ও মাত্র ১০ হাজার সেনা নিয়ে লিবিয়ার মরুভূমিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করে গেছেন । তার মরুভূমি যুদ্ধ সর্ম্পকে ভালোই জ্ঞান ছিল । আর সেই জ্ঞান কে কাজে লাগিয়ে তিনি লিবিয়ার মরুভূমিতে ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করতেন কখন ইতালির সেনারা টহল দিতে আসবে ।
.
আর যেই মরুভূমিতে ইতালির সেনারা টহল দিতে আসতো ওমনি অতর্কিত হামলা চালিয়ে অসংখ্য ইতালি সেনাদের মেরে ফেলতেন তিনি ও তার সহযোদ্ধারা ।
ঠিক এই অতর্কিত হামলা বা অ্যাম্বুশ পদ্ধতিটি দীর্ঘ ২০ বছর ইতালির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছেন ।

লিবিয়ার মরুভূমিতে তিনি ছিলেন অপরাজেয় । ওমর মুখতারের অতর্কিত হামলার জন্য ইতালির সেনারা সবসময়েই ভয়ে থাকতো । ওমর মুখতার কখনো কখনো একাই হয়ে উঠতেন ইতালির সেনাদের একমাত্র প্রতিপক্ষ ।

মূলত লিবিয়ার মরুভূমিতে বীরত্বের সাথে যুদ্ধের জন্য তাকে ডেজার্ট অব লায়ন বা মরুভূমির সিংহ বলা হতো ।
.
১৯৩০ সালে ইতালির স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনি ওমর আল মুখতার কে জীবত অথবা মৃত অবস্থায় দেখার জন্য ইতালির সেনা কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন । নির্দেশ মোতাবেক ১৯৩১ সালে একটি যুদ্ধে ইতালির সেনাদের গুলিতে আহত অবস্থায় ওমর মুখতার আটক হোন ।
.
.
১৯৩১ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর ৭৩ বছর বয়সী ওমর আল মুখতার কে ইতালির আদালতের নির্দেশে অনুযায়ী ফাসিঁ তে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে বেনিতো মুসোলিনির প্রশাসন ।
.
.
মৃত্যুর আগে ওমর আল মুখতার বলে গেছিলেন ” মুসলিমরা হলো বীরের জাতি , একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই আল্লাহ্ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করতে পারে না । আমরা হয় যুদ্ধে জিতবো নয় তো মারা যাবো ” ।

ওমর আল মুখতার...
ওমর আল মুখতার


ওমর আল মুখতারের জানাযা তে ২০০০০ মানুষের সমাগম হয়েছিলো ।
আজ ৮৮ বছর পরে এসেও লিবিয়ার প্রতিটি শ্রেনী বা স্তরের মানুষ তাকে মন থেকে ভালভাসে ।
এমনকি লিবিয়ার ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ভীষন শ্রদ্ধা করতেন ওমর আল মুখতার কে ।
মুয়াম্মার গাদ্দাফি সবসময়েই বলতেন “লিবিয়ার জন্য ওমর আল মুখতার যা করেছেন তা প্রত্যেক লিবিয়ার নাগরিক মনে রাখবে । ওমর আল মুখতার লিবিয়ার শ্রেষ্ঠ সন্তান” ।
.
.
ওমর মুখতারের ছবি রয়েছে লিবিয়ার দিনারে । এছাড়া সৌদি আরব , জর্ডান , ফিলিস্তিন , মিশরে রয়েছে ওমর আল মুখতার নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাস্তাঘাট । এছাড়া ভেনেজুয়েলা তে ওমর মুখতারের ভাস্কর্য নির্মান করা রয়েছে ।
.
.
১৯৮১ সালে ডেজার্ট অব লায়ন নামে ওমর আল মুখতার কে নিয়ে হলিউডে একটি সিনেমা তৈরি করা হয় ।

ওমর আল মুখতার

লেখেছেন@ফারহান জোবান(গবেষক ও ইতিহাসবিদ)

4 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।