দৈনিক মতামত

প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম

হোস্টিং

ডোমেইন ও হোস্টিং কাকে বলে? হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি?

ডোমেইন ও হোস্টিং কাকে বলে? হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি?

একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করে আমাদের সর্বপ্রথম যেটা প্রয়োজন তার নাম হলো  ডোমেইন।

এখন আমাদেরকে জানতে হবে ডোমেইন কাকে বলে?

ডোমেইন হলো আপনার সাইটের নাম অর্থাৎ যে নামে আপনার সাইটটি পরিচিত লাভ করবে।
মানুষের ক্ষেত্রে যেমন একেকজনকে একেক নামে ডাকা হয় তেমনি ভাবে একেকটি  সাইটকে একেকটি নামে ডাকা হয়।আর যে সাইটকে যে নামে ডাকে ওইটা ওই সাইটের ডোমেইন।তবে একটি নাম পৃৃৃৃথিবীর অনেক জনে রাখতে পারে,কিন্তু একটি ডোমেইন শুধু মাত্র একটিি সাইটেই রাখতে পারে।

২)হোস্টিং

একটি ওয়েবসাইট বা  ব্লগ তৈরি করতে ডোমেইনের পরপরই হোস্টিং এর প্রয়োজন।

এখন আমাদেরকে জানতে হবে হোস্টিং কাকে বলে?

হোস্টিং হচ্ছে একটি ঘরের মত।যেরকম ভাবে আপনি ঘর ছাড়া যাযাবর তেমনি ভাবে হোস্টিং ছাড়া আপনার ডোমেইনও অচল। অর্থাৎ হোস্টিং হচ্ছে একটি সংগ্রহশালা বা স্পেস যেখানে আপনার সাইটের কন্টেন্ট বা ফাইলগুলো যেখানে জমা থাকবে।আরো সহজে বলতে গেলে হোস্টিং আমাদের কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক বা মোবাইলের মেমোরি কার্ড অর্থাৎ মেমোরির মধ্যে যেরকম ভাবে আমাদের ছবি/পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি জমা থাকে তেমনিভাবে হোস্টিং এর মধ্যে আমাদের সাইটের কন্টেন্ট বা ফাইলগুলো যেখানে জমা থাকে।

হোস্টিং এর প্রকারভেদ:-

ডোমেইন এবং হোস্টিং কাকে বলে? হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি?
ডোমেইন এবং হোস্টিং কাকে বলে? হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি?

১)ফ্রী হোস্টিং

ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রী হোস্টিং।একজন ব্লগার সর্বপ্রথম ফ্রী হোস্টিং দিয়েই কাজ শুরু করে।কেননা ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা চর্চা করতে একটি ব্লগ তৈরি করতে হয়,আর প্রথম প্রথম কেউই ভুলত্রুটির উর্ধ্বে নয়।তাই ব্লগিং শিখতে সর্বপ্রথম ফ্রী হোস্টিং ব্যবহার করাই উত্তম।কারন হলো ফ্রী হোস্টিং এর জন্য কোন ধরনের মূল্য পরিশোধ করতে হয় না।সম্পূর্ণ ফ্রীতেই হোস্টিং সুবিধা দিচ্ছে।
কিন্তু এটার লিমিট আছে।অর্থাৎ এখানে ব্যান্ডউইথ (Bandwidth), মাসিক ভিজিটর (Monthly visitor), ডিস্ক স্পেস (Disk space) ইত্যাদির লিমিট থাকে।লিমিট পেরিয়ে গেলেই আপনার সাইট একধরনের অচল হয়ে যাবে।কেননা তখন নতুন করে কোন কিছু আপলোড করা যাবে না,এবং সাইটও ভিজিট করা যাবে না।এবং হোস্টিং কোম্পানিও আপনাকে কোন সহযোগিতা করবে না।তাই ব্লগিং সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা পেলে ওয়েব হোস্টিং পরিবর্তন করাই উত্তম।

শেয়ারড হোস্টিং (Shared Hosting)

পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় হোস্টিং হচ্ছে শেয়ারড হোস্টিং (Shared Hosting)।
শতকরা ৮০% ওয়েবসাইটে শেয়ারড হোস্টিং ব্যবহার হয়।কেননা এটা দামে সশ্রায়ী(কম)।
দাম কম হওয়া কারন হলো শেয়ারড হোস্টিং এর দ্বারা একই সার্ভারে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডাটা বা কন্টেন্ট জমা রাখতে পারে।
এখানেও ব্যান্ডউইথ,ইমেইল ইত্যাদির লিমিট আছে।তবে এটা ফ্রী  হোস্টিং এর চেয়ে অনেক বেশি।এছাড়া আপনি হোস্টিং কোম্পানি থেকেও যথেষ্ট সহযোগিতা পাবেন।

রিসেলার হোস্টিং (Reseller Hosting)

রিসেলার হোস্টিং বলা হয় আপনার নিজের ডিস্ক স্পেস অন্যের সাথে শেয়ার করাকে।অর্থাৎ  আপনি আপনার কেনা সার্ভারে অন্য কাউকে ফাইল রাখার অনুমতি দিয়ে তার বিনিময়ে টাকা গ্রহন করাকেই রিসেলার হোস্টিং বলে।

ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting)

ডেডিকেটেড হোস্টিং এটা অতিরিক্ত দামী হোস্টিং।মূলত যে সব সাইট পরিমাণে খুব একটা বেশি বড় হয় তাদের জন্য ডেডিকেটেড হোস্টিং। সাধারণত গুগল,ফেসবুক,ইয়াহু,টুইটার এ জাতীয় বড় বড় কোম্পানি গুলোই ডেডিকেটেড হোস্টিং ব্যবহার করে থাকে।
কেননা অতিরিক্ত ভিজিটর হলে সাধারণ হোস্টিং ওয়েবসাইট কন্ট্রোল হারিয়ে পেলে,এবং সাইট ডাউন হয়ে যায়।

ম্যানেজড হোস্টিং (Managed Hosting)

এ হোস্টিং এর সুবিধা হলো সম্পূর্ণ কিছু কোম্পানি করে দিবে  দিবে,ব্লগারকে তেমন কিছুই করতেন হবে না। যেমনঃ সার্ভার মেইনটেনেন্স, কনফিগারেশন, সার্ভার স্টোপ, সফটওয়্যার ইন্সটল ইত্যাদি।

আনম্যানেজড হোস্টিং (Unmanaged Hosting)

আনম্যানেজড হোস্টিং হলো যা সম্পূর্ণ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে অর্থাৎ  আপনার কাছে সার্ভারের ফুল কন্ট্রোল থাকবে। মেইনটেনেন্স, কনফিগারেশন, সার্ভার স্টোপ, সফটওয়্যার ইন্সটল ইত্যাদি আপনার নিজেকেই করতে হবে। এতে করে আপনার টাকাও মোটামুটি কম খরচ হবে।

ভিপিএস হোস্টিং

ভিপিএস হোস্টিং হচ্ছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (Virtual Private Server) VPS। শেয়ারড হোস্টিং আর ডেডিকেটেড হোস্টিংয়ের মাঝামাঝি একটি  হোস্টিং এর নাম হলো ভিপিএস হোস্টিং। শেয়ারড হোস্টিংয়ে একই সার্ভারে হাজার হাজার সাইট হোস্ট করা থাকে।আর ডেডিকেটেড সার্ভারে শুধুমাত্র আপনার সাইটই হোস্ট করা থাকে। ভিপিএস হোস্টিংয়ে একটা ডেডিকেটেড সার্ভার অল্প কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়া হয়।

একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরির পূর্ণ গাইড

আপনি একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করতে হলে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে :-  ব্লগ কি?ব্লগিং কাকে বলে?ব্লগার কারা? অথবা এবং ওয়েবসাইট কি ও কেন?এবং ওয়েবসাইট কাকে বলে ও তার লাভ কি?  তারপর আপনাকে জানতে হবে ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম ও পদ্ধতি

তো ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম জানার পর আমাদেরকে জানতে ডোমেইন ও হোস্টিং কাকে বলে?হোস্টিং কত প্রকার ও কি কি?

তো ডোমেইন ও হোস্টিং কাকে বলে তা জানারপর আমরা এখান থেকে একটি ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে পারি।এখান থেকে উন্নতমানের ডোমেইন ও হোস্টিং কিনার পর আমাদেরকে জানতে কীভাবে সিপ্যানেল এর মাধ্যমে ওয়ান ক্লিকে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করে ওয়েবসাইট বা ব্লগকে পরিপূর্ণ রূপ দিবেন। তারপর আপনি ওয়ার্ডপ্রেস থিম নির্বাচন ও উন্নতমানের ফ্রী নিউজ থিম ব্যবহার করে একটি ওয়েবসাইটকে পরি পূর্ণরূূপে সাজাতে পারবেন।

8 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।