দৈনিক মতামত

প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম

ইসলাম

নামাজে মনোযোগী হওয়ার সহজ উপায়

নামাজে মনোযোগী হওয়ার সহজ উপায়


নামায পড়তে গেলে আমাদের মনযোগ নামাযে থাকে না। অনেক চেষ্টা করলেও আচমকাই আবার ছুটে যায়। আমরা কী পড়ি তা সাধারণত আমরা জানি না। তাই নামারে প্রতি মনযোগী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যস্ততার কারণে হোক বা তাড়াহুড়োর কারণে হোক কিংবা যে কোন কারণেই হোক আমরা সব সময় নামাযে গভীর মনোযোগ দিতে ব্যার্থ হই।

মনোযোগ বিষয়টা কাজ করবে যখন আমরা বুঝব যে নামাযে আমরা কী বলছি। নামাযে আমরা যা বলি, তার অর্থ জানা থাকলে নামাযে অন্য চিন্তা মাথায় আসবে না!! এ চেষ্টাটা করলে হয়ত নামাযে মনযোগ ধরে রাখা যাবে।

নামাযে মনযোগ আনতে যা করবেন
নামাযে মনযোগ আনতে যা করবেন

নিয়ত করার পর, নামাযের মধ্যে আমরা কী কী পড়ি বা বলছি-

১. নামাযে দাঁড়িয়েই প্রথমে আমরা বলি, ”আল্লাহু আকবার’
অর্থ– আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ।

২. তারপর পড়ি সানা। সানায় আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি নিজের জন্য দোয়া করি।
সানা : ”সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবারাকাস্মুকা ওয়া তা’আলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা”
অর্থ : হে আল্লাহ ! তুমি পাক-পবিত্র, তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তোমার নাম বরকতময়, তোমার গৌরব অতি উচ্চ, তুমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নাই।

৩. তারপর আমরা শয়তানের প্রতারণা থেকে আশ্রয় চাই এবং বলি,
“আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজিম।”
অর্থ : বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

৪. আল্লাহর পবিত্র নাম দিয়ে আল্লাহর দয়া করুণার গুণ দিয়ে নামায এগিয়ে নিয়ে যাই। এজন্য বলি, ’বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’
অর্থ : পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।

৫. এরপর আমরা সূরা ফাতেহা এবং অন্য সূরা দিয়ে নামায শুরু করি ২ রাকাত / ৪ রাকাত , ফরয / সুন্নতের নিয়ম অনুযায়ী নামায পড়ি। অন্তত সূরা ফাতিহার অর্থটা জানি।

সূরা ফাতিহা :

আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
আররাহমা-নির রাহীম।
মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন।
ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম; গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওলাদ্বল্লিন।
আমীন।

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
দয়াময়, পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
বিচার দিবসের মালিক।
আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই।
আমাদেরকে সরল পথ দেখান। পথের হিদায়াত দিন।
তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন।যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।
কবুল করুন।

৬. আমরা রুকুতে আল্লাহ্ -র উদ্দেশ্যে শরীর অর্ধেক ঝুঁকিয়ে দিয়ে মাথা নুয়িয়ে দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করি এবং ক্ষমা চাই, তিনবার বলি-
সুবাহানা রাব্বি-আল আজিম / সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম ওয়া বিহামদিহি
অর্থ : আমার মহান রবের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি ।

৭. তারপর রুকু থেকে উঠে আমরা বলি –
“সামি আল্লাহু লিমান হামিদা”
অর্থ : আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা করে ।

তারপর পরই আমরা আবার আল্লাহর প্রশংসা করে বলি –
“রাব্বানা লাকাল হামদ”
অর্থ : যাবতীয় প্রশংসা কেবল তোমারই।

৮. তারপর আমরা সমস্ত শরীর নুইয়ে মাথাকে মাটিতে লুটিয়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট সিজদা দেই।
সিজদায় তিনবার বলি- ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’
অর্থ : আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি

বি: দ্র: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করে, আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লেখেন ও তার একটি পাপ দূর করে দেন এবং তার মর্যাদার স্তর একটি বৃদ্ধি করে দেন।

৯. দুই সিজদার মাঝখানে আমরা বলি,
”আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনী, ওয়াহদীনি, ওয়া আফিনী, ওয়ার-ঝুকনী”
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমায় মাফ কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে শান্তি দান কর এবং আমাকে রিজিক দাও।

১০. এভাবে নামায শেষে, মধ্য (২ রাকাত, ৪ রাকাত ভিত্তিতে) বৈঠক আর শেষ বৈঠকে তাশাহুদে আল্লাহর প্রশংসা করি। রাসূল (সাঃ) এর প্রতি দুরূদ পেশ করে নিজেদের জন্য দোয়া করি। দোআ মাসুরা পড়ি ।

তাশাহুদ :
‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়াতু, ওয়াত্ তাইয়িবাতু। আসসালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসূলুহু।

অর্থ : “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।”

দুরুদ :
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন
কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’’

অর্থ : “হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ও উনার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।”

দোআ মাসুরা :
আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি যুলমান কাছিরা, ওয়ালা ইয়াগ ফিরূজ যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরূর রাহিম |

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আমার উপর অত্যাধিক অন্যায় করেছি গুনাহ করেছি এবং তুমি ব্যতীত পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমা একমাত্র তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে| আমার প্রতি রহম কর। নিশ্চই তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু।

১১. দুই কাঁধে সালাম দিয়ে আমরা নামায শেষ করি ।

১২. মুসলিম উম্মাহ এর জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া।

•••
যখন আমরা নামাযে ব্যবহৃত শব্দ বাক্যগুলোর অর্থ বুঝব বা অনুভব করব তখন মনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ঘটবে এবং আমাদের সাহায্য করবে নামাযকে আরও বেশি সুন্দর ও খাঁটি করতে। এজন্য যে সম্পূর্ণ অর্থ মুখস্ত করতে হবে তাও নয়।

যদি শুধুমাত্র জানা থাকে এবং মনের গভীরতায় বোধ থাকে এই কিছু অর্থ, তাহলেই তা কাজ করবে অসাধারণ ভাবে, ইন শা আল্লাহ্।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাযে মনযোগী করুক। আমীন।
লেখেছেন @ নাসীমুল বারী(কবি ও কলামিস্ট)
২ সে প্টেম্বর ২০১৯

31 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।