দৈনিক মতামত

প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম

তথ্য

যেখানে মিয়ানমার কেবলেই এগিয়ে যাচ্ছে সামরিক শক্তিতে

যেখানে মিয়ানমার কেবলেই এগিয়ে যাচ্ছে সামরিক শক্তিতে
.
.
গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমার ভারত থেকে একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন পাচ্ছে এই খবরটা নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে । আসলে অনেকে একে খুবেই হালকা ভাবে নিচ্ছে । আবার অনেকেই একে খুব বড় ভাবে নিচ্ছে ।
.
দেখুন মিয়ানমার ও ভারতের মধ্যে ডিপ্লোমেটিক বা নিরপেক্ষ বন্ধুত্ব শব্দটি নেই । যারা এমনটা মনে করেন তারা সবাই নিজের মুর্খতার পরিচয়টা সবার সামনে তুলে ধরেছেন ।
.
.
১৯৪৮ সালে মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের সাথে বন্ধুত্ব সর্ম্পক রেখে চলেছে তারা ।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকে না । মিয়ানমারের প্রতি ভারত কতটা দায়বদ্ধ তার বড় প্রমান কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মির প্রধান করে গুপ্তহত্যা করে RAW এর এজেন্টরা ।
এছাড়া মাঝেমধ্যেই মিয়ানমারে প্রবেশ করে আরাকান বিদ্রোহীদের হত্যা করতে নিশ্চয়েই শুনেছেন !
আপনাদের কাছে প্রশ্ন রইলো এরপরেও কি আপনারা বলবেন মিয়ানমার ভারতের সাথে ডিপ্লোমেটিক সর্ম্পক রাখে ?

আমার পোস্ট যারা সম্পূর্ন ভাল করে পড়েন তাদের আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি মিয়ানমার কেবল একটা দাবার গুটি যার মাধ্যমে ভারত তাদের কাছ থেকে মনযোগ সরিয়ে মিয়ানমার কে প্রধান টার্গেট বানানো হচ্ছে ।

কিন্তু আপনাদের প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু রাষ্ট্র হচ্ছে জারজদের দেশ বলে পরিচিত ভারত ।

.

আপনাদের প্রত্যেকেই ডিফেন্স পেইজ বলেন বা সেনাবাহিনী বলেন প্রত্যেকেই মিয়ানমার কে টার্গেট করে দেয়া হচ্ছে । কিন্তু আসলে মিয়ানমার ও ভারত এই ২টা দেশ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের জন্য চরম এক হুমকি ।

.

.

এত গেল এই দুই দেশের শত্রুতার কথা । কিন্তু কখনো জানার চেষ্টা করেছেন কি যে মিয়ানমার গোপনে রাসায়নিক ও বায়োলজিক্যাল অস্ত্র রয়েছে । এখানেই শেষ নয়

.

দেশটির ইয়াঙ্গুন প্রদেশে অত্যান্ত গোপনে মাটির নিচে টানেল নির্মান করে পরমানু গবেষনা চলছে ! ! বলা হয় এখানে ৩০০ জন উত্তর কোরিয়ার নাগরিক কাজ করে । ২০১৮ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জলসীমানা থেকে একটি উত্তর কোরিয়ার জাহাজের পেছনে ধাওয়া করে তাদের সন্দেহ ছিল ওই জাহাজটি তে পরমানুর কাচামাল ছিলো ।

.

.

তাছাড়া মিয়ানমার এই বছরের শেষের দিকে আপগ্রেড করা ৬টি SU-30SME মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান পাচ্ছে । যা মিয়ানমারের মনোবল বাড়িয়ে দিবে ।

সত্যি কথা বলতে কি মিয়ানমারের মনোবল বৃদ্ধি তখন থেকে শুরু হয়েছে যেদিন তারা পাকিস্তান থেকে ১৬টি JF-17 থান্ডার যুদ্ধবিমান পেয়েছে।

.

এছাড়া গত কয়েকদিন আগেই তো মিয়ানমার ভারতের কাছ থেকে Sheyna টর্পেডো পেয়েছে যা পানির নিচে ৩৩ নট গতিতে ৭ কিঃমিঃ দূরে থাকা সাবমেরিন ধ্বংস করে দিতে পারে ।

ভারতের সায়না টর্পেডো


.
আর বর্তমানে হট টপিক মিয়ানমার কে ভারত রাশিয়ার তৈরি কিলো ক্লাস সাবমেরিন দিচ্ছে যা আসলে খুব একটা সুবিধার না ।
কিন্তু সমীকরন পাল্টে যাবে যখন মিয়ানমার এতে ক্যালিবার ক্রুজ মিসাইল যুক্ত করবে ।
আসলে এটা স্বাভাবিক যে বর্তমানে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সর্ম্পক রয়েছে তা স্বাভাবিক যে এই ধরনের অস্ত্র তারা দিবে ।

আগামীকাল যদি ভারত মিয়ানমার কে অগ্নি-১ ব্যালিস্টিক মিসাইল দেয় যার রেঞ্জ ৭০০ কিঃমিঃ বেশি তাতে আপনারা একে হতবাক হলেও আমি মোটেই অবাক হবো না । কারন এসব মিলিটারি স্ট্র্যাটেজি অনেক দেখেছি আমি।
.
তবে ভারত যেহেতু এখনো কিলো ক্লাস সাবমেরিন দেয়নি মিয়ানমার কে তাই অগ্রিম কিছু বলতে চাচ্ছি না ।
.
আমি কেবল আপনাদের বলবো যে গত ২ বছরে মিয়ানমার যত সমরাস্ত্র কিনেছে তারা ৪ ভাগের ১ ভাগ কিনেছে বাংলাদশ ।
.
.
আরেকটা খবর সেই ২০১৭ সাল থেকে ঝুলে রয়েছে যে মিয়ানমার চীন থেকে ৫০টি SY-400 ব্যালিস্টিক মিসাইল কিনতে যাচ্ছে যার রেঞ্জ ৩০০ কিঃমিঃ ।
যদিও মিয়ানমার এখনো এই ব্যাপারে কিছু বলেনি তবে মিয়ানমারের মিডিয়া ও ডিফেন্স পেইজ বলছে এটা নাকি কেনা হবে ।
তবে এটা কতটুকু সত্য তা জানি না ।
তবে মিয়ানমার যদি চীন থেকে SY-400 ব্যালিস্টিক মিসাইল কিনে থাকে তাহলে আমি অবাক নই।

ছবিতে চীনের তৈরি SY-400 ব্যালিস্টিক মিসাইল ও

আজ দেশে এত মুর্খ ও আর্বজনা লোকের সংখ্যা বেড়ে গেছে যে তারা অর্থনীতি দিয়ে সামরিক শক্তির বিচার বিশ্লেষন করে ।
এদের কাছে নাকি যার অর্থনীতি ভালো তারাই নাকি যুদ্ধে জিতবে । কি রাবিশ মার্কা চিন্তার ভাবনা করা লোকের জন্ম হচ্ছে আমাদের দেশে ।
এরাই সব জায়গাতে বলে বেড়ায় ভারত নাকি কখনো যুদ্ধ করতে আসবে না ইত্যাদি ইত্যাদি । আর এরাই মিয়ানমার কে প্রধান শত্রু মনে করে ।

সর্বশেষ কথা এটাই দেশের সেনাবাহিনীর আচরন মোটেই সন্তোষজনক নয় । সরকার ও সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ বাংলাদেশ কে সুরক্ষিত নয় উল্টো দেশ কে ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।
কারন গত ২ বছরে এমনকি এখন পর্যন্ত কোন ভালো পরিমানে সমরাস্ত্র কেনার কোন খবর নেই ।

লেখেছেন @ফারহান জোবান (গবেষক ও ইতিহাসবিদ)