দৈনিক মতামত

প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম

ছোটগল্প

স্পর্শ প্রহর(ছোটগল্প)গল্পকার:-মাসুদ চয়ন

স্পর্শ প্রহর(ছোটগল্প)মাসুদ চয়ন
`
মানুষের কাছে গ্রামীন পরিবেশ যেনো_ মায়ের স্নেহময় সান্নিধ্য। গ্রামের অলি গলি পথ-প্রান্তর,নদী, বাঁশঝাড়, পুকুর,ডোবা সব কিছুতেই আলাদা আলাদা গন্ধ পাওয়া যায়। মায়ের ভালোবাসার নিগুঢ় স্বচ্ছতা অনুভব করা যায়। _তাই কবির কবিতায় গ্রামীণ আবহকে মাতৃ উপমায় বারবার বিশেষিত করা হয়েছে। গ্রামে আসলাম অন্তত ১০ বছর পর। নিজের গ্রাম নয়, পরের গ্রাম। মানে একটা মেয়ের গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। কি আশ্চর্য ব্যাপার বটে! সে তো আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ নয়!কি যে আছে কপালে! আমি মানুষটাই এমন। কখন যে কিভাবে কি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই!

মেয়েটার নাম ইশা। ও একটা সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখা পাঠাতো। আমি সেই সাহিত্য পত্রিকার সাব ইডিটর।মেয়েটা ঠিকানাও দিতো লেখার সাথে। কিন্তু ছবি পাঠাতো না। তবে ফোন নম্বর পাঠিয়েছিলো। মেয়েটা ভীষণ সুন্দর সব কবিতা লিখতো! আমি মাঝে মাঝে বিস্ময়ে হতবিম্ব হয়ে যেতাম। ওর কবিতায় যতোটা প্রেম ছিলো আবেগ ছিলো,তার চেয়েও অধিকতর বেশি পরিমানে কষ্ট ছিলো।আমি ওর কবিতার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম,ওর কষ্টগুলিকে জীবন্ত অনুভব করেছিলাম। অথচ এও জানি কবি মরলেই কবিতা প্রাণ পায়। কবি তো জীবন্তই মৃত্যু স্বাদ আচ্ছাদনে ব্যাকুল।

তাই তো নিয়মকানুনের মাথা খেয়ে তরিহরি করে লেখা পাঠালেই ছাপিয়ে দিতাম পত্রিকায়। এ জন্য একবার প্রায় চাকরি যায় যায় অবস্থা ! রেফারেন্স কে দিছে কেনো বারবার এই অজোপাড়া গাঁয়ের মেয়ের লেখা প্রকাশ করা হচ্ছে। কে দিয়েছে এই অধিকার! তারপর কিভাবে যেনো রক্ষা পেয়ে গিয়েছিলাম বিনয় অনুনয় করে। এরপর দু দুটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেলো। আমি এখন শালুক সাপ্তাহিক পত্রিকার সাহিত্য বিভাগের সবচেয়ে আলোচিত নাম। আমার গল্প কবিতার কারনে পত্রিকার সুনাম প্রিতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। তাই এখন আর আমাকে কেউ দাবিয়ে রাখায় প্রয়াস চালাতে পারেনা। আমি এখন নিজের মতো চলার স্বাধীনতা পেয়েছি। মেয়েটার সাথে ফোনে অগনিতবার কথা হয়েছে।কি যে মিষ্টি কন্ঠস্বর! মনে হয় ও যেনো আমার প্রানের প্রেয়সী হয়ে আমার সাথে কথা বলছে। সবকিছু খুলে বলার পর ও আর একটাও কবিতা পাঠায়নি। হাজার মিনতি করেও লাভ হয়নি। বিষয়টা ওকে খুব করর যন্ত্রনা দিয়েছিলো’

ও সবসময় ফোন দিয়ে আমার লেখার খোঁজ খবর নিতো।আর আমি কথা বলতে বলতে মেয়েটার জন্য খুব বেশি পরিমানে মায়া অনুভব করতে শুরু করলাম,ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গেলাম।ইশা দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। না জানি প্রেম ট্রেম করে কিনা!করলে করুক গে! তাতে আমার কি! এই যুগে একটা কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সিংগেল না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আমি কেবল দেখতে এসেছি। পরিচয় তো দিবই না।কেনো জানি মনে হচ্ছে পরিচয় দিলে ও আর আমার কাছে লেখা পাঠাবে না। চিরকুটময় লেখাগুলোও আর আসবেনা। ওর পাঠানো লেখা গুলি পড়লে আমি কেমন জানি হয়ে যাই। এতো কষ্ট কেনো ওর!৷ খুব করে জানতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে ওর কষ্ট গুলি ভুলিয়ে দিতে কিন্তু ও বলে,ওর নাকি কোনো কষ্ট নেই। কেবল কল্পনার আশ্রয় নিয়ে এতো সুন্দর সব কবিতা লিখে।
আমার কখনই তা বিশ্বাস হয়নি। কষ্ট আছে ওর। পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে ইশা। ইশা আমি এখন খুলনার চিত্রা নদীর খুব কাছের বাস স্টান্ডে চলে এসেছি। এইতো বাস থেকে নেমে পড়লাম। প্রচুর খুদা লেগেছে। হালকা কিছু খেয়েই নদী পথ বেয়ে তোমার ঠিকানায় ছুটবো। উত্তরের ঝিনাইতলী গ্রামে তোমার বাড়ি। বাড়ির পাশে বিশাল একটা বনশালী বৃক্ষ আছে। প্রতিদিন বিকেল বেলা সেখানে বসে তুমি কবিতা লিখো। চিত্রা নদীর অবিরাম স্নিগ্ধ স্রোতের দিকে চেয়ে গলা ছেড়ে গান গাও। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই বাসায় ফিরে যাও। আমার সব কিছু হৃদয়স্থ হয়ে গেছে। এবার কেবল সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর পালা। একেবারে ক্লস হয়ে দেখবো হুম। চোখ মুখ নাক কান সব কিছু টেনে টেনে দেখবো হুম! আরে কি সব বলছি এসব!থুক্কু!
শুভ্র আকাশের দিকে চেয়ে মনের আনন্দে হাসছে। ও মামা একটা কাঁচা পাতি দিয়া চা দেন তো?রুটি কি আজকের?বাসি জিনিস খাইলে আবার পেট খারাপ করে। প্রচুর গ্যাসের সমস্যা হয়।
দোকানদার দরাজ গলায় উত্তর দেয়। হ তাঁজা রুটি।গরম চায়ে চুবাইয়া খাইলে বেশ আরাম পাইবেন।শহর থাইকা আইছেন নি ?
লায়কের(নায়কের)লাহান লাগতেছে আপ্নারে। কই যাইতাছেন মামা!কার বাড়ি?
শুভ্র চায়ে চুমুক দিতে দিতে কথা চালিয়ে যায়। ও আপনি চিনবেন না আমি নিজেও ঠিক মতো চিনিনা। এক অচেনার বাড়ি যাবো। মনের চোখ দিয়ে যাকে দেখেছি আমি। কেমন যেনো কাঁপন শুরু হয়ে যায় শরীরে,তার কথা ভাবলে। মামা আপনি মুরব্বি মানুষ, একটু দোয়া করে দিনতো।
দোকান্দার বিস্মিত!এ কেমন ধরনের কথা মামা।
দোয়ায় কি কাম অইবো। গরীব মানষের আবার দোয়া!
!আপনে মনে হয় প্রেমে ট্রেমে পড়ছেন।আর সে ও মনে হয় মেয়ে।
এইসব বেহুদ্দা কামে আমি নাইগা।
শুভ্র প্রসংগ বদলায়। ও বুঝতে পারে মানুষটা উলটা বুঝতে যাচ্ছেন। দারিদ্র্যতার কোষাঘাতে হয়তো ওনার প্রেমিক হৃদয়টা জ্বলে গেছে। অসাধারন হয়েছে চা টা। ঢাকা শহরের চা ভাতের ফ্যনার মতো স্যাঁপসেপে লাগে। আপনার হাতে মনে হয় ম্যাজিক আছে।

দোকানদার চায়ের কেটলিতে পানি ঢালছেন। নদীর পাড়ে টং দোকান। বাতাসে বেশ দোল খাচ্ছে। তেমন কিছু নয় মামা। সব কিছুই গুড়ের তেলেস্মাতি!
শুভ্র ওনাকে গুরুত্বের সাথে প্রশ্ন করে। আমি ঝিনাইতলী গ্রামে যেতে চাই। নদী পথে যাওয়ার ইচ্ছে। কি ভাবে কি করবো বুঝতে পাড়ছি না।বরষা মৌসুম বলে কথা।কিছুটা ভয়ও লাগছে বটে।সাঁতার তো জানিনা।
দোকানদার ঘাঁটে বাঁধা নৌকা দেখায়।একটা ডিঙি নৌকা ভাড়া কইরা নেন। ২০ মিনিট লাগবে ওপারে যাইতে। ভাড়া নিবে ২৫ টাকা। আর ভয়ের কিছু নাই। সব মাঝিই পাক্কা চালক। এই গাঙের জলই ওগো বসতবাড়ি।
শুভ উঠে পড়লো৷। বিদায় জানালো ক্ষনিকের পরিচিত এক মানুষকে। চিত্রা নদীর পাড়ে এসে একটা ডিঙি নৌকা ভাড়া করে তাতে উঠে পড়লো। কি অথৈ জলরে বাবা!ভরা নদী বুঝি উছলে যায় যায়।
মাঝি,শুভ্রকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলে। মামা,নড়াচড়া কম করেন। বোঝেনি তো নৌকার সাইজ কত্তো ছোটো। আপনি কি সাংবাদিক?নদীর মধ্যেও দেখি লেখালেখি করতাছেন।
শুভ্র লিখতে লিখতে উত্তর দেয়। আমি একজন লেখক। এটাই আমার কাজ।তোমার কন্ঠস্বর কিন্তু বেশ সুন্দর মাঝি ভাই। একটা গান শুনাবে বাপু?
মাঝি মুখ আ করে হাসতে থাকেন। লজ্জাহীন স্বচ্ছতার হাসি। কি যে কন মামা!অশিক্ষিত মানুষের আবার গান! গান গাইতে পারিনা মামা,প্যাটের দায়ে গাঙের জলে নৌকা ভাসাই। ছাতাটা চাড়ায় লন মামা। বৃস্টি শুরু হয়া গেলো। .ঠান্ডাও পড়ছে বেশ। কয়েক দিনের ভ্যাঁপসা গরমটাও কাইটা গ্যালো।



শুভ্র মাঝির পিঠে হাত রাখে। যেনো কতো জনমের পরিচিতজন। কতো মায়া তার প্রতি। তোমার ছাতা লাগবে না ভাই?
মাঝি বইঠা বাইছে প্রবল বেগে। সারা শরীর ভেঁজা জবজবে। লাগবো না মামা।আমরা অভ্যস্থ হয়া গেছি ভিঁজতে ভিঁজতে।আমাগো কোনো অসুখ বিসুখ হয়না ভিঁজলে।

কি যে ঝুম বৃস্টি নামলো!আহা!কি অপরুপ দৃশ্যপট। ভরা নদীতে বৃস্টির এমন অপরুপ রুপমা আগে কখনো দেখা হয়নি।
শুভ্রর মনটা আনন্দে দেউলিয়া হয়ে ওঠে।
আর কতোক্ষন লাগবে যেতে? প্রায় ১৫ মিনিট সময় তো অতিবাহিত হয়ে গেলো মাঝি।
মাঝি হাঁপাতে হাঁপাতে উত্তর দেয়। মিনিট ১০ এর মতো লাগবে। বৃস্টির কারনে গলুইয়ে টান পড়তেছে একটু বেশি।
এরপর অনবরত কথা চললো ১৫/১৬ বছরের ছেলেটার সাথে। কিভাবে যে ১০ টা মিনিট অতিবাহিত হয়ে গেলো! নীল চোখের অধিকারী ছেলেটার সাথে কথা বলতে বেশ ভালোই লাগছিলোশুভ্রর।নৌকা থেকে নেমে ওর হাতে একটা একশ টাকার নোট গুঁজে দিলো।ভালোবেসে দিলাম কিশোর মাঝি। মিস্টি খেয়ে নিয়ো।তোমার সারল্য ভরা আপ্যায়ন আমার বেশ ভালো লেগেছে। শহরের মানুষকে এমন হতে দেখা যায় না।
এরপর ঝিনাইতলী গ্রামের একমাত্র আঁকাবাঁকা সড়কটাতে ঢুকে পড়লো।
কিছু দূর দুরত্ব বজায় রেখে সারি সারি গরু ছাগলকে রাস্তার পাশে খুটি গেড়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।ওরা ঘাস খাওয়াতে মগ্ন হয়ে পরেছে।ওদের ঘাস খাওয়ার মনোরম রুপমা হৃদয় ভরে উপভোগ করতে শুরু করলো শুভ্র।মাঝে মাঝে কিছু লাথি গুতাও উপহার পেলো। গ্রামের ২০০ বছরের পুড়নো বনশালী বৃক্ষটার পাশে ইশার বাড়ি। ও একবার ফোনে বলেছিলো।কি প্রসংগে যেনো বলেছিলো!ভুলেই গিয়েছিলো শুভ্র।সব কিছু স্পষ্ট মনে আসলো হুট কিরে ।এখন তো তিনটা বাজে।ও তো বিকেলবেলা ওই বনশালী বৃক্ষের পাশে এসে বসবে। জানিনা ওর বিকেল শুরু হয় কয়টা থেকে। জানিনা ও সাথে কাউকে নিয়ে আসে কিনা।কেমন জানি ভয় ভয় করছে শুভ্রর।বুকটা ধুক ধুক করে কেঁপেই যাচ্ছে অহর্নিশ। গ্রামের বেশ ভিতরেই তো চলে আসলো। এখন কাউকে কিছু বলতেই হবে। রাস্তার পাশের এক মাচা ঘরে বসে কয়েকজন মহিলা আর যুবক আড্ডা দিচ্ছেন। পারিবারিক আড্ডা,আড্ডার ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
শুভ্র সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ২০০ বছরের প্রাচীন বনশালী বৃক্ষের লোকেশন টা আমাকে বলবেন দাদু?
বৃদ্ধ দাদুর বয়স ৭০ এর মতো হবে।শরীর এখনো বেশ মজবুত।
ইব্রাহিম খান কানে কম শোনেন কোন শালী!মানে কার শালী!কিসের হাগেশন?
শুভ্র কিছুটা বিরক্ত হয়।কারন,কমবয়সী রা ওর দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে হাসছে। হাগেশন নয় দাদু লোকেশন।
ইব্রাহিম খান শুভ্রর মাথায় হাত বুলাতে থাকেন। কি কস এসব বাবা!লোকমান হাজি নামে কেউ এই গ্রামে নেই।
শুভ্র স্বাভাবিকভাবে আবারও প্রশ্ন করে।দাদু ২০০ বছরের পুড়ান বট গাছটা কতো দূর?
ও এইটা কইলেই তো হয় বাবা!কি সব হাগা মুতা শুরু করছো তুমি?পেছনে থুইয়া আইছো। ওই যে রাস্তার পাশের ডান দিকের সড়কটা বাঁশঝাড়ের ভিতর দিয়া গেছে,ওইটা ধইরা পাঁচ মিনিট হাঁটা দাও।
ধন্যবাদ দাদু।
ইব্রাহিব খান আবারও কানের সমস্যায় আত্যস্থ হন্ম কিসের বাত।বুঝায় কও?বাতের ব্যাথা আছেনি তোমার?
শুভ্র এবার খুব বেশি লজ্জা পায়। হাসির রোল ছেয়ে গেছে ওকে নিয়ে। জি মানে।যাই আমি কেমন?
ইব্রাহিম খান:-হ হ হাঁটা দাও তুমি।



বাঁশঝাড় বেয়ে আবারো হাঁটা শুরু করে দিলাো। বৃস্টি এখনো ঝিরি ঝিরি পড়ছে। একটু আগে কম ছিলো।এখন আবার বেড়ে গেলো। রেইন কোডটা বের করে পরে নিলো।আহারে!ইশা যদি এই বৃস্টির দিনে ঘড় থেকে বেড় না হয়! কি হবে তখন!তাতে কি?দেখা তো হবেই। গাছ তলায় শুয়ে একটা রাত কাটালেই বা ক্ষতি কি?
এই সময় আবার অফিস থেকে পত্রিকার পরিচালক সাহেব ফোন দিলো?কি যে যন্ত্রণা! জি স্যার।আমি দু চার দিন অফিসে আসতে পাড়বোনা।আমি মরে গেছি। জি না থুক্কু!খালাতো মামা মারা গেছে।
শফিক সাহেব রেগে যায় শুভ্রর আচরণ দেখে। কি বলো এসব!খালাতো মামা মানে!
শুভ্র:-আমি অনেক ভেঙে পড়েছি স্যার!মাথা ঠিক নেই আমার।পরে ফোন দিয়ে সব কিছু বলবো।এখন রাখি তাহলে।গুড বাই।
এই তো!এই সেই বনশালী বৃক্ষ।
কিন্তু কেউ নেই কেনো!একটা কাক পক্ষীও তো দেখা যায়না ।এমন জনশুন্য জায়গায় আর কেই বা আসবে?


ওই তো একটা বাড়ি দেখা যাচ্ছে। দুই মিনিটের হাঁটা দুরত্ব। অথচ ঝোপ ঝারের গভীরতায় আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে। শুভ্র কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে উকি ঝুঁকি মাড়ার চেষ্টা করছে।
পেছনে ফিরে দেখলো একটা মেয়ে এসেছে।ওই বৃক্ষের এক প্রকান্ড মুলে বসে আপন মনে নিমগ্ন আরাধনায় কবিতা লিখছে। দুচোখ অশ্রুতে ভিঁজে জব জব করছে শুভ্রর। আনন্দাশ্রু ইহাকেই বলে।ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, আর অশ্রুধারা বেড়েই যাচ্ছে। কি আশ্চর্য ব্যাপার!এমন হচ্ছে কেনো!এমন লাগছে কেনো !
এটাই তাহলে মৌমিতা।ওর নাম ইশা আহমেদ মৌমিতা।শুভ্র রুমাল দিয়ে দুচোখ মুছে কাঁপতে কাঁপতে ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।এর আগে আর কখনো একটা মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এতো অসহায় লাগেনি নিজেকে।মেয়েটি ওর কবিতার মতো শুভ্র সুন্দর। শরীরের রঙ শ্যামলাটে।চোখে মুখে কেমন যেনো হৃদয়গ্রাহী মায়া লেগে আছে মৌমিতার।
মৌমিতা খুব কাছে চলে আসে। দেখে বেশ অবাক হয়েছে!ভাব দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
মৌমিতা বিস্ময় চোখে চেয়ে আছে।এখানে কাকে খুঁজছেন?
শুভ্র ঠান্ডায় থর থর কাঁপছে। জি মানে…..
মৌমিতা আরও কাছে আসে।কি হলো উত্তর দিন?
জি মানে,পথ হারিয়ে ফেলেছি।
মৌমিতা শান্ত হয়ে প্রশ্ন করে। কোথায় যেতে চান আপনি?
আমি একটা মেয়েকে মনে মনে ভালোবাসি।খুব গভীরভাবে ভালোবাসি।ওর খোঁজে ভুল গ্রামে চলে এসেছি।
মৌমিতার বিস্ময়টা বিস্তৃত হয়।তার সাথে দেখা হয়েছে কখনো?
তুমি কি মৌমিতা!
আশ্চর্য! আমার নাম জানলেন কি করে!
জি মানে,ওর নাম মৌমিতা।


মৌমিতা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। তাই।ও কি জানে আপনি ওকে দেখতে এসেছেন?বা ও কাউকে ভালোবাসে কি না তার খোঁজ নিয়েছেন?
-না।খুব কষ্ট পাচ্ছি জানো।তুমি বয়সে অনেক ছোটো, তাই তুমি করে বলছি।
মৌমিতা আর নিজেকে আড়াল করেনা। ও বুঝতে পারে,এই সেই শুভ্র।
আপনি শুভ্র ভাইয়া না।
শুভ্র নিজেকে আর সংযত রাখতে পারেনা।মৌমিতাকে শক্ত করে চেঁপে ধরে বুকের সাথে। দুজনে নিশ্চুপ। কোনো সাঁড়া শব্দ নেই।
কিছুক্ষন কেটে যায়। শুভ্র মৌমিতাকে বুক থেকে সরিয়ে নেয়।
মৌমিতার চোখ অশ্রুসিক্ত। ও খুব করে চেয়েছিলো নীরবতার প্রিয় মানুষটা অন্তত একবার সামনে আসুক।
শুভ্র ভাই,বাসায় চলেন।আপনি অনেক ক্লান্ত। আমার আম্মু কিছু মনে করবেননা।সব কিছু খুলে বলবো।
স্পর্শ প্রহর
(মাসুদ চয়ন)

1 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।