নিগার(অণূগল্প) মোর্শেদা রুবী

অণূগল্প:- নিগার
গল্পকার:-মোর্শেদা রুবী


ফজরের নামাজ পড়েই চুলায় চায়ের পানি বসালো নিগার।বারান্দার ফুলগাছ গুলোতেও পানি দিলো।খাঁচায় ঝোলানো নদীর ময়না পাখিটাকে খাবার দিয়ে নিজের জন্য চা বানাতে রান্নাঘরে ঢুকলো।

চা টা খেয়ে বাড়ীর সবার জন্য নাস্তা বানাতে হবে তারপর নিগারকে বেরোতে হবে চেম্বারের উদ্দ্যেশ্যে।
বিয়ের পর পরই কাজটা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো নিগার।কিন্তু আইরিন আপার আগ্রহ আর ইমরানের সম্মতি সব কিছু মিলিয়ে কাজটা আর ছাড়া হয়নি।
তবে আইরিন আপার নির্দেশে নিগার এখন বিকেল পাঁচটার মধ্যেই চেম্বার থেকে বেরিয়ে পড়ে কারন ইমরান বাড়ী ফেরে ছয়টায়।নিগার চেষ্টা করে ওর আগেই বাড়ী পৌঁছে যেতে।

বাংলা গল্প

ইমরান ফজরের নামাজ সেরে এসে আবার ঘুমিয়েছে।সাড়ে সাতটার দিকে নিগার এককাপ চা নিয়ে বেড সাইড টেবিলে রাখল।কিছুক্ষণ ইমরানের চুলে হাত বুলিয়ে দেখলো ও জাগে কিনা কারন জেগে থাকলে এটুকু স্পর্শই ওর জন্য যথেষ্ট।
নিগার কয়েকবার ইমরানের চুলে হাত বুলিয়ে বুঝতে পারলো ইমরান গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে তাই সে আর ওকে আর বিরক্ত না করে চলে আসার জন্য উঠে দাঁড়াতেই আচমকা ওর শাড়ীর আঁচলে টান পড়লো।নিগার ফিরে তাকাতে ইমরান জড়ানো গলায় বললো-“ভাল্লাগছিলো তো!চলে যাচ্ছো কেন?”
-“ওমা,আপনি জেগে?”
-“দাও না,চুলটাতে হাত বুলিয়ে….!”
-“আরো ঘুমুবেন নাকি, ওঠেন চা এনেছি!”
ইমরান আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে বসলো!
নেশা জড়ানো দৃষ্টিতে নিগারের দিকে তাকিয়ে বললো-“আবারো আপনি আপনি শুরু করেছো?কাল রাতে তো বেশ তুমি করে বলছিলে!”
নিগার লাজুক হাসলো-“তুমি” টা বিশেষ সময়ের জন্যই তোলা থাক।এখন উঠুন, চা টা খেয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন।গরম গরম নাস্তা দিচ্ছি।খেয়ে নিন।আমি তো আবার আজ বেরুবো!”
ইমরান নিগারের হাত ধরে নিজের দিকে টানলো-“একটা কথা শুনে যাও!”
-“কি কথা বলুন!”
-“উঁহুঁ….কানে কানে..!”
-“না,কানে কানে এখন কোনো শুনবোশুনবো না।আমি জানি আপনি আবার দুষ্টামী শুরু করবেন।উঠুন তো! প্লিইজ!”
ইমরানকে ঠেলে তুলে দিয়ে নিগার কোমড়ে আঁচল পেঁচিয়ে রান্নাঘরে ঢুকলো।

সকাল নয়টার মধ্যে শ্বশুড় সহ নদী আর ইমরানকে নাস্তা খাইয়ে নিগার নিজেও চেম্বারে যাবার জন্য তৈরী হলো।বিয়ে উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ যাবৎ চেম্বারে যাওয়া হয়নি।আজ থেকে আবার যাওয়া শুরু করবে বলে নিগার রাতেই সব রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিয়েছে।অবশ্য ভাবী বাড়ী থাকলে এতো কিছু ভাবতে হতোনা।ভাবী বড় ভাইয়াকে নিয়ে চেন্নাই গেছে ডাক্তার দেখাতে।ফিরতে ক’দিন লাগবে কে জানে..!

সর্বশেষ আপডেট

নিগার সব গুছিয়ে নদীকে ডেকে সবকিছু বুঝিয়ে দিলো কারন বাড়ীতে বাবার সাথে ও-ই থাকবে!তাছাড়া বূয়াটাও দেশে গেছে।তাই নিগার ওকেই বলে গেলো দুপুরে খাবারগুলো যেন ওভেনে গরম করে বাবার সামনে দেয় এবং নিজেও খেয়ে নেয়।ইমরান দুপুরে কখনো বাড়ীতে খায়না,অফিসেই লাঞ্চ সারে।তাই ওকে নিয়ে চিন্তা নেই।
বাড়ীর কথা ভেবেই নিগার চেম্বারের কাজটা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু ইমরানের কথা হচ্ছে যখন আমরা বেবী নেবো তখন এসব ভাবা যাবে।আপাতত করছো যখন করতে থাকো।বরং এটার টাকা দিয়ে তুমি তোমার গ্রামের বাড়ীটা ঠিকঠাক করতে পারবে।নিগারের কাছে আইডিয়াটা মন্দ লাগেনি।সেই থেকে ওর বেতনের একটি টাকাও খরচ না করে জমাতে লাগলো নিগার।ওর মনে একটা গোপন ইচ্ছে আছে।একদিন ইমরানের সাথে কথাটা শেয়ারও করেছিলো।ওর অংশের জায়গাটাতে ও একটা মাদ্রাসা খুলতে চায়।মাদ্রাসাটাতে আরবী পড়ানোর পাশাপাশি স্কুলিংও চলবে।গ্রামের অসংখ্য ছেলেমেয়ে তাতে পড়ার সুযোগ পাবে।এসব শুনে ইমরান ওকে ফুল সাপোর্ট করে বলেছে,’খুবই ভালো কথা!তুমি এগোও বাকী যা লাগবে আমি দেবো।নিঃ সন্দেহে এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।’ইমরান জানতে চেয়েছিলো মাদ্রাসার নাম কি হবে।নিগার খানিকক্ষণ চিন্তা করে বলেছে,আমার অসম্ভব প্রিয় একজন সাহাবীর নামে হবে মাদ্রাসাটার নাম !আর নামটা হলো উমার রাঃ।ইমরান মুচকি হেসে বলেছে,চমৎকার বলেছো।অসম্ভব ব্যক্তিত্ববাণ এই লৌহমানব পৃথিবীর বুকে আজও এক অতুলনীয় মানুষ।মহাত্মা গান্ধী কি বলেছিলেন জানো,”বর্তমান অশান্ত পৃথিবীকে শান্ত করতে একজন উমরই যথেষ্ট!”নিগার ওর কথায় সায় দিয়ে দ্রুত হাতে টেবিল গোছাল।ইমরান নাস্তা খেয়ে উঠে যাবার সময় চারদিকে তাকিয়ে টুপ করে একটা চুমু খেলো নিগারের গালে।নিগার চমকে গিয়ে মুখ তুলে তাকানোর আগেই ইমরান সটকে পড়লো সেখান থেকে।নিগার আপনমনেই হেসে ফেললো।

প্রায় দেড় সপ্তাহ পরে আজ চেম্বারে আসায় সবাই ওকে কনগ্র্যাটস জানাতে লাগলো।নিজের ডেস্কে বসতেই নিগার কাজে ডুবে গেলো।বেলা বারোটার দিকে একজন মহিলা এসে ওর টেবিলের সামনে দাঁড়ালো!
-“এক্সকিউজ মি,আমি একটু ব্যারিষ্টার আপুর সাথে দেখা করতে চাই!”
নিগার কাজ ফেলে মুখ তুলে তাকালো-“আপনি কি এর আগে এসেছিলেন?”
-“জ্বী!”
-“আপনার মামলার নাম্বার কত?”
-“নাইনটি সিক্স বাই নাইনটিন।আমি আসলে একটা লিগ্যাল নোটিশ পাঠাতে চাই।এ ব্যাপারেই আইরিন ম্যামের সাথে কথা বলতে এসেছি !”
-“ওকে একটু বসুন।ম্যাম এখনো এজলাস থেকে ফেরেন নি।আপনার নামটা বলুন তো !”
-“জ্বী,আমার নাম নিপা।”
নিগার ফাইল টেনে বের করে চোখ বুলিয়েই চমকে তাকালো মহিলার দিকে।নিজেকে সামলে নিয়ে বললো-“আপনার স্বামী কি করেন?”
-“ও একটা কলেজে পড়ায়!”
-“আপনি ওনাকে নোটিশ পাঠাতে চাচ্ছেন কেন?”
-“আমি ওকে একটু শিক্ষা দিতে চাই।হয় নিজের সংসার বাঁচাবে নয়তো নিজের মা বোনকে নিয়ে থাকবে।এরকম ম্যান্ডামোল্লা আমার দরকার নেই!”
নিগার ফাইলটাতে চোখ বুলিয়ে বললো-“আপনাদের কি ডিভোর্স হয়ে গেছে?”
-“না,হয়নি।আমি ওকে ডিভোর্স দিলে তো ও বেঁচে যায়।ওর মা বোন ক্রমাগত তাকে ফুসলাচ্ছে আমাকে ডিভোর্স দেবার জন্য!আমি নিজ কানে শুনেছি।ঐ ডাইনি দুইটাকে শায়েস্তা করবো।এই মামলায় তো ওরা এরেষ্ট হবেনা কারন এটা দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধার মামলা তাই ঐ দুইটার নামে নারী শিশু নির্যাতনের মামলা করবো!”
-“কিন্তু নারী শিশুর মামলা তো এভাবে হবেনা।তারা কি আপনাকে ফিজিক্যালি টর্চার করেছে?সেরকম হলে এমসি মানে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে থানা থেকে মামলা করতে হবে।আপুর এখান থেকে তো এটা হবেনা।”
-“জ্বী,আমি সেটাই করবো।নিজের শরীরে নিজে জখম করে হাসপাতালে ভর্তি হবো তারপর ঐ দুই বান্দীকে যৌতুক আইনে আসামী করবো।সোজা গারদের ভেতর।”
-“কি সর্বনাশ।আপনি এমনটা কেন করবেন।সমস্যা হয়েছে তার সমাধানও আছে।আপনার পক্ষের মুরুব্বী আর তাদের পক্ষের মুরুব্বী নিয়ে বসে বিষয়টা পারিবারিকভাবে ফায়সালা করুন।এমনটা করা ঠিক হবেনা!”
-“শোনেন আপা,এদের আপনি চিনেন না।আমার বাচ্চাটা আপনা থেকেই নষ্ট হইসে কিন্তু এই দুই কুটনী মনে করসে আমি এবোর্ট করসি।তখন থেকেই আমার পিছে লাগসে।মনে করসে আমারে বাড়ী থেকে বাইর করে ছেলেরে আরেকটা বিয়ে দেবে,এত্তো সোজা না।আমিও ছেড়ে দেবোনা!”
-“কিন্তু এভাবে…..!”
-“শোনেন,এদের জ্বালায় ওর ১ম বৌ ভাগসে এখন আমার পিছনে লাগসে,মনে করসে আমি ওদের ১ম বৌয়ের মতো ভোন্দা।আমারে তো চিনেনাই,হাইকোর্ট দেখায়া দিবো এইবার!”
নিগার ঢোক গিলে ফাইল বন্ধ করে টিস্যু দিয়ে চেপে ঘাম মুছলো।তারপর নিপাকে ইভার কাছে পাঠিয়ে দিলো।

সেদিন বাড়ী ফিরেও অন্যমনস্ক ছিলো নিগার।ইমরান কয়েকবার দুষ্টুমী করে ওর মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়ে এবার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো-“কি ব্যপার,কি এমন চিন্তা যা তোমাকে আমার ব্যাপারে উদাসীন করে রেখেছে!”
নিগার বলবেনা করেও বলে ফেললো নিপার কথাটা।শুনে ইমরান গম্ভীর হয়ে বললো-“এই মহিলা ফের এলে তুমি ওর সাথে আর ডিল করবেনা।লিভ হার এলোন।এই মহিলা যদি তোমার পরিচয় জানতে পারে তো বলা যায়না,তোমার মানসম্মান খাবে।”
-“হমম….আচ্ছা,কথাটা কি আমি আইরিন আপাকে জানাবো?তাহলে এই মহিলার ফাইল আমি নোরার টেবিলে ট্রান্সফার করে দিতাম।আমার কাছে রাখতাম না!”
-“মমম…..”কিছুক্ষণ ভাবলো ইমরান।
তারপর বললো-“বলো।তাহলে এই মামলার ব্যাপারে তুমি দুরে থাকতে পারবে।”
-“সেজন্যেই বলতে চাই!”
-“আচ্ছা,বলো।যদি কোনো প্রবলেম হয় আমাকে জানিও!”
-“জ্বী…!”
-“এবার এই সুপরামর্শের জন্য আমার ভিজিটটা দিয়ে যাও!”
নিগার অবাক হতে গিয়ে হেসে ফেলে ইমরানের বুকে মৃদু কিল বসালো!

বিন্দুভাবী চেন্নাই থেকে ফিরে এসেছে।প্রত্যেকের জন্য কিছু না কিছু উপহার এনেছেই।নিগারের জন্য চমৎকার কাশ্মীরী ওড়না হিজাব আর শাল এনেছে।ইমরানের জন্য পাঞ্জাবী।নদীর জন্য থ্রিপীস।শ্বশুড় সাহেবের জন্য কয়েকটা ফতুয়া আর আতর।
সবার সব গিফট দিয়ে বিন্দু নিগারকে বললেন-“এদিকের সব খবর ভালো তো?তুমি নাকি চেম্বারে যাচ্ছো?”
-“জ্বী,ভাবী যাচ্ছি তো।”
-“ভাবছিলাম সামনে তো দুদিন ছুটি আছে।আম্মাদের জিনিসগুলো দিতে দেশের বাড়ী যেতে চাচ্ছিলাম।তোমরা যাবে নাকি আমাদের সাথে?তোমার ভাইয়া আবার যেতে চাচ্ছেনা।অসুবিধা কি,কালুর মা আছে।বেশী করে রান্না করে রেখে যাবো সে বেলায় বেলায় শুধু ভাতটা রান্না করে দেবে।গেলে চলো যাই!”

অনেকদিন পর নিজ গ্রামের কথা ওঠায় নিগার সেখানে যাবার লোভ সামলাতে পারলোনা।সে রাজী হয়ে গেলো।
অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলেই ওরা চারজন বালিগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।এবং মাত্র দুই আড়াইঘন্টার মধ্যেই ওরা গ্রামে পৌঁছে গেলো।
পরদিন নিগার বিন্দু ভাবীর অনুমতি নিয়ে নিজের বাড়ী গেলো তবে ওর উদ্দেশ্য ছিলো আজমেরী বেগমের সঙ্গে দেখা করা।বিন্দু নদীকে সাথে দিয়ে দিলেন।আজমেরী বেগম নিগারকে বিবাহিতার সাজে দেখে যারপরনাই বিস্মিত।আচমকা তার ভোল পাল্টে গেলো।সে চুড়ান্ত যত্ন করলো নিগারের।রাতে খেয়ে যাবার জন্য পা ধরা বাকি।নিগার বহুকষ্টে তাকে নিবৃত্ত করে বেরিয়ে এলো তবে বারবার অনুরোধ করলো আফিয়ার যে কোনো প্রয়োজনে তাকে জানানো হয়।
আজমেরীর চোখে আবেগে পানি দেখা দিলো।নিগার বেরোবার সময় ওর হাত ধরে ক্ষমা চাইলেন আজমেরী।স্বীকার করলেন সেদিন তিনি নিগারের সাথে অন্যায় করেছিলেন।তার ফল মিলেছে।পাড়ার ছেলেরা আজকাল আফিয়াকে বিরক্ত করে।আফিয়া উঠতি বয়সের মেয়ে,পাহাড়া দিয়ে রাখতে হয়।ভাইদের বাড়িও যেতে সাহস পাচ্ছেন না কারন ভাই বৌ রা উটকো ঝামেলা মনে করবে…ইত্যাদী।নিগার আফিয়াকে পর্দা করার নসীহত করে আজমেরিকে বললো ভালো পাত্র পেলে যেন আফিয়ার বিয়ের ব্যপারে এখন থেকেই ভাবতে শুরু করে।
ফেরার সময় আজমেরী পিছন পিছন সদর দরোজা পর্যন্ত এসে বললেন-“তোমার জায়গা জমি এমন করি ফেলি রাখছো।ইডার কি করবা?”

নিগার তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানাতে আজমেরী খুশী হয়ে বললেন-“তাইলে মাদ্রাসা তাড়াতাড়ি বানাও,আমারও থাকতে সুবিধা হইবো,এমনেতো বিরান পইড়া আছে।তহন লোকজনের চলাচল বাড়বো।আমারও একলা একলা লাগবোনা।”
আজমেরীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিগার রফিক চাচার বাড়ী চলে এলো।পরদিন বিকালেই ওরা ঢাকায় রওনা দিলো।তবে রওনা দেবার আগে নিগার কিছু টাকা নিয়ে আজমেরীর হাতে গুঁজে দিয়ে এলে তিনি কেঁদে ফেলে বললেন-“তোমার সাথে আমি কত্ত খারাপ ব্যবহার করছি আর তুমি কিনা আমারে সাহাইয্য করতাসো?”
-“এটা আমাদের নবীর সুন্নত আম্মা।তিনি বলেছেন,ভালোকে তো সবাই ভালোবাসে মন্দকে ভালোবাসাই হলো আসল উত্তম ব্যবহার।উত্তম ব্যবহার হলো সেই আমল যা সারাবছর রোজা রেখে সারারাত তাহাজ্জুদ পড়েও পাওয়া যায়না।”
-“তুমার লাইগা মন থাইক্কা দোয়া করি মা।তুমার জামাইটারে এট্টু দেখতে মন চায়!”
-“যাবার সময় দেখা করিয়ে নিয়ে যাবো আম্মা !”
পরদিন ফেরার আগে আজমেরী ইমরানকে দেখে খুব খুশি হয়ে বললেন-“মাশাআল্লাহ, বাবা বাইচ্চা থাকো।সুখে থাকো!”

অণূগল্প:- নিগার
গল্পকার:-মোর্শেদা রুবী

ঢাকায় ফিরে পরদিন চেম্বারে গিয়ে নিগার জানতে পারলো নিপা তার শ্বাশুড়ী এবং ননদকে নারী নির্যাতনের কেসে ভিতরে পাঠিয়ে দিয়েছে তবে স্বামীর নামে কোনো ক্লেইম করে নাই।তার যাবতীয় অভিযোগ ঐ দুজনের নামে।নিগার প্রানপনে নিজেকে শান্ত করে রাখলো।
কয়েকদিন পরে নিপা ওর টেবিলেই এলো।নিগার জানালো ওর ফাইল নোরার টেবিলে।নিপা হঠাত বললো-“আপনিই কি নিগার?”
নিগার ঢোক গিলে বললো-“জ্বী,কেন?আর আপনি কিভাবে জানলেন?”
-“ভয় পাবেন না।আপনার ব্যপারে আমার কোনো অভিযোগ নেই!আর জানাটা কঠিন কিছু না।আপনার নাম শুনে একটু খোঁজ খবর করতেই কথা বেরিয়ে আসলো।তবে আপনি ওকে ডিভোর্স করে বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছেন।আপনার মতো মেয়েদের জন্য ঐ পরিবার না।রেবেকা হক আর নেহাকে যে শিক্ষা দিয়েছি,আজীবন মনে রাখবে।টাকা খরচ করলে কি না হয়।মাত্র দুদিন হাসপাতালে কেবিন ভাড়া করে থেকেছি আর এমসি বের করে থানায় মামলা ঠুকে দিয়েছি।ব্যস আর যায় কোথায়।জানি ওরা জামিন পেয়ে যাবে তা পাক কিন্তু জেলের হাওয়া তো খাওয়ালাম।আর ভাবছি জাওয়াদকে নিয়ে আমি আলাদা হয়ে যাবো।মা বোনকে খরচ দিতে চায় দিক মানা করবোনা কিন্তু ঐ দুই ডাইনীর সাথে এক সাথে থাকা আমি এলাউ করবোনা!”

নিগার কোনো কথা না বলে ভদ্রতার হাসি হেসে নিজের কাজে মন দিলো!নিপা ওকে টাটা বাই বাই দেখিয়ে চলে গেলো!

                     ~সমাপ্ত~
admin

Recent Posts

ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার উপায়

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সারা বিশ্বের যুবক-শিশু-বৃদ্ধ কম-বেশ ফেসবুকের সাথে পরিচিত রয়েছে। ২০১৭ সালে ফেসবুক বছরের প্রান্তিক আয় ঘোষণার সময়…

1 সপ্তাহ ago

বিবাহের জন্য পাত্রী নির্বাচন করবেন যেভাবে

মানব জাতির মধ্যে পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক,এর চেয়ে উত্তম সম্পর্ক পৃথিবীতে আর আসবে না।এবং পৃথিবীতে সর্বপ্রথম সম্পর্কও স্বামী-স্ত্রীর(আদম-হাওয়ার)।রাসুল(সাঃ)…

2 সপ্তাহ ago

এলার্জি থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার উপায়।। ১০০% কার্যকরী।।

এলার্জি!পৃথিবীর সকল মানুষের মধ্যেই কম-বেশ এলার্জি অবশ্যই থাকে।কারো শরীরে বেশি কারো শরীরে কম পার্থক্য এইখানেই।তবে অতিরিক্ত এলার্জি কতটুকু কষ্টকর তা…

2 সপ্তাহ ago

তাড়াতাড়ি ঘুম আসার সহজ উপায়।। ১০০% কার্যকরী।।

ঘুম!পৃথিবীতে সবচেয়ে শান্তি ও আরামদায়ক মুহূর্ত হচ্ছে ঘুম।ঘুম আমাদেরকে পরবর্তী দিনের কাজ-কর্ম করার জন্য চাঙা করে তুলে।সারাদিন কাজ-কর্ম ও খেলাধুলা…

2 সপ্তাহ ago

হস্তমৈথুনের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং মুক্তির উপায়

হস্তমৈথুন (Masturbation) কি? হস্তমৈথুন বা স্বমেহন (Masturbation)  হচ্ছে এক ধরণের বিকৃত যৌনক্রিয়া।যা শয্যাসঙ্গিনী/সঙ্গী ছাড়া হাত কিংবা সেক্সটয় এর মাধ্যমে নারী/পুরুষ যৌনসুখ উপভোগ করার চেষ্টা করে…

2 সপ্তাহ ago

বাবার বিয়ে(শেষ পর্ব)নুসরাত মাহিন

গল্পঃবাবার বিয়ে(পর্বঃ১০) লেখাঃনুসরাত মাহিন মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে মাকে মনে পরে আমার মাকে মনে পরে। দেখতে দেখতে…

2 সপ্তাহ ago