বাবার বিয়ে (২তয় পর্ব)নুসরাত মাহিন

গল্পঃ:-বাবার বিয়ে (২তয় পর্ব)

লেখাঃনুসরাত মাহিন

সকালে রেডি হয়ে স্কুলে চলে আসলাম। স্কুলের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গ করে হাসছে। আমি মাথা নিচু করে ক্লাসে ঢুকে পরলাম। নিলা আমার ক্লাসমেট ওর সাথে কখন আমার ভালো সম্পর্ক ছিল না। নিলার কাজ হলো আমার পিছনে লেগে থাকা।

— কিরে নিশি শুনলাম তোর বাবা নাকি বিয়ে করেছে। আচ্ছা তোর যদি ভাই হয় তাহলে তোর আব্বারে কি বলে ডাকবে নানা। নিলার কথা শুনে ক্লাসের সবাই হাসিতে ফেটে পরেছে।

সর্বশেষ আপডেট

স্যার এসে ওদের কথা শুনে ফেলে সাবাইকে খুব বকা দেয় আর নিলাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়েছে।

স্যার আমার হাতটা ধরে বাহিরে নিয়ে এসেছে। স্কুলের জারুলতলায় বসে স্যার শুধু একটাই কথা বলেছে।

— নিশি জীবনটা বড় কঠিনরে মা। চলার পথে শত বাঁধা আসবে সবাই তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী হবে না । এর মধ্যে তোমাকে মানুষের মত মানুষ হতে হবে। জীবনটাকে সুন্দর ভাবে সাজাতে হবে। কে কি বলে তা মাথায় নেবে না তোমার শুধু একটা জীনিস মাথায় রাখবে পড়ালেখা করে দেখিয়ে দেবে মেয়েরাও বাবার সম্মান ধরে রাখতে পারে চলার পথে বাবা -মায়ের লাঠি হতে পারে। আমি জানি তুই পারবি তোকে পারতেই হবে।

আমি মুগ্ধ হয়ে স্যারের কথাগুলো শুনেছি আর মনে মনে প্রতিঙ্গা করেছি মায়ের মনের আসা পুরন করবো। আমি ডাক্তার হব।

স্কুল থেকে এসে মাকে ঘরে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা। পুকুরপাড় গিয়ে দেখি মা কাঁদছে। আমি যেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে আছি।
মাগো তুমি কেঁদোনা তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। তোমার সব দুঃখ দূর করে দেবো।

বাড়ির সবাই খুব খুসি ছোট মার বাচ্চা হবে। বাবা ছোট মায়ের খুব যত্ন করে।

বাবার বিয়ে (২তয় পর্ব)নুসরাত মাহিন

ছোট মাকে আমার খুব একটা পছন্দ না। সবার সামনে ভালো ব্যবহার করলেও আমি একা থাকলে বাজে ব্যবহার করে।

ঐ দিন বাবার সাথে বাজারে যেতে চেয়েছিলাম ছোট মা বাবা সামনে নোংরা ভাষার রাগারাগি করলো বলে এতবড় দামড়ি মাইয়া বাজারে যাবি কি করতে বেডাগো শরীলে গা ঘসতে।আমি লজ্জায় কেঁদে দিয়েছি বাবা ঐ মহিলাকে কিছুই বলেনি শুধু এই চুপ করো।

আমি জীবনেও বাবার সাথে কোথাও যাবার কথা মুখেও আনবোনা।

এদিকে বড় আপুর শ্বশুর বাড়ির লোকেরা
বাবার উপর রেগে আছে। আপুকে এখানে আসতে মানা করে দিয়েছে।

একটা বছর হয়ে গেছে আপুরা বাড়িতে আসে না।

বাবা আগের মতো আপুদের সাথে যোগাযোগ করে না। আগে প্রতি মাসে এক বার করে ছোট আপুকে দেখে আসতো এখন আপুদের সাথে ফোনে কথা বলার ও সময় নাই।

বাসায় লোক জনে ভরা আত্নীয়স্বজনরা সবাই এসেছে। ছোট মায়ের ছেলে হয়েছে। বাবা আজ অনেক খুশি। একটা গরু, দুইটা ছাগল জবাই দেয়া হয়েছে সমস্ত গ্রামের লোকেদের খাওয়ানো হবে।
আকিকা দিয়ে ভাইয়ের নাম রাখা হয়েছে খন্দকার ফজলে আরমান।

ভাইটাকে আমাদের কে ধরতে দেয় না। আমারা নাকি ভাইয়ের বড় শত্রু সুজোগ বুঝে মেরে ফেলবো।

বাবা এসে মায়ের আঁচলের থেকে চাবির গোছাটা খুলে নিয়ে গেছে। ছোট মা বাবার কাছে আবদার করেছে সংসারের সব দায়িত্ব সে চায়।বাবাও উপহার হিসাবে সংসারের কতৃত্ব ছোট মাকে দিয়েছে কারন সে ছেলের মা।

আমার মা এখন আর এই পরিবারের কেউ না মায়ের প্রয়োজন নাই। আমি জানি বাবার উপর মায়ের অনেক অভিমান তাই পুতুলের মত সব কিছু দেখেও দেখে না।

ছোট মায়ের বড় ভাই এসেছে এখন থেকে আমাদের সাথে থাকবে। বাবার সাথে ব্যবসায় দেখাশুনো করবে। বাবা একা ব্যবসায়ের সব দিক একা সামলাতে পারছে না তাই ছোট মা উনার ভাইকে খবর দিয়ে এনেছে।

লোকটা কেমন করে যেন মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আমার ওই মামাটাকে সুবিধার মনে হয় না। কারনে অকারনে আমাদের রুমের সামনে দিয়ে ঘোরাফেরা করে।

বাবাটা না কেমন যেন হয়ে গেছে আমাকে এখন আর একদম ভালোবাসে না।
তিন দিন ধরে বাবাকে বলেছি একটা নোট বই আর কাগজ লাগবে। বাবার মনে থাকে না অথচ ভাইয়ের জন্য ব্যাগ ভরে বাজার করে নিয়ে আসে।

বাবা বাহিরের থেকে এসেই ছোট মায়ের রুমে চলে যায় আমাদের সাথে কথা বলতেও মনে হয় বাবার কষ্ট হয়।

বাবা তোমার মনে আছে আমি মিষ্টি পছন্দ করতাম বলে তুমি আমাকে আদর করে মিষ্টি নামে ডাকতে। মা রাগ হবে দেখে তুমি প্রতিদিন লুকিয়ে আমার জন্য মিষ্টি কিনে আনতে। সপ্তাহে একবার করে গঞ্জে নিয়ে যেতে নতুন কাপড়, চুড়ি, কতকি কিনে দিতে।

বাবাগো এই কদিনে কিভাবে সব কিছু ভুলে গেলে। কতদিন আমাকে মিষ্টি বলে ডাকোনা।

ছোট মা স্যারকে বাসায় পড়াতে আসতে মানা করে দিয়েছি এগুলো বার্তি খরচ।আমাকে একটা কোচিং খরচ দেবে।

শুধু আমার না আপুদের পড়ার খরচ দিতে বাবাকে মানা করে দিয়েছে। ছোট মা বলে মাইয়া মাইসের এত পড়া লেখা করে কি হবে। আপুরা নাকি পড়ালেখার নাম করে শহরে পোলাগো লগে ফোস্টিনোস্টি করে বেড়ায়।

আমাদের লেখাপড়া বন্ধ করার তোমরা কে।তোমারা হয়তো ভুলে গেছো সম্পত্তি বাবার একার না আমার মায়ের অর্ধেক সম্পত্তি। আমাদের পড়ার খরচ কখনো বাবা দেয়নি সারাজীবন মা দিয়েছে।

আমি প্রতিবাদ করেছি বলে বাবা ছোট মায়ের সামনে বসে আমাকে মেরেছে।

বাবা তুমি আমাকে কিভাবে মারতে পারলে…?

চলবে…

বাবার বিয়ের সব গল্প পড়ুন

admin

Recent Posts

ফেসবুক থেকে ভিডিও ডাউনলোড করার উপায়

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সারা বিশ্বের যুবক-শিশু-বৃদ্ধ কম-বেশ ফেসবুকের সাথে পরিচিত রয়েছে। ২০১৭ সালে ফেসবুক বছরের প্রান্তিক আয় ঘোষণার সময়…

1 সপ্তাহ ago

বিবাহের জন্য পাত্রী নির্বাচন করবেন যেভাবে

মানব জাতির মধ্যে পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক,এর চেয়ে উত্তম সম্পর্ক পৃথিবীতে আর আসবে না।এবং পৃথিবীতে সর্বপ্রথম সম্পর্কও স্বামী-স্ত্রীর(আদম-হাওয়ার)।রাসুল(সাঃ)…

2 সপ্তাহ ago

এলার্জি থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার উপায়।। ১০০% কার্যকরী।।

এলার্জি!পৃথিবীর সকল মানুষের মধ্যেই কম-বেশ এলার্জি অবশ্যই থাকে।কারো শরীরে বেশি কারো শরীরে কম পার্থক্য এইখানেই।তবে অতিরিক্ত এলার্জি কতটুকু কষ্টকর তা…

2 সপ্তাহ ago

তাড়াতাড়ি ঘুম আসার সহজ উপায়।। ১০০% কার্যকরী।।

ঘুম!পৃথিবীতে সবচেয়ে শান্তি ও আরামদায়ক মুহূর্ত হচ্ছে ঘুম।ঘুম আমাদেরকে পরবর্তী দিনের কাজ-কর্ম করার জন্য চাঙা করে তুলে।সারাদিন কাজ-কর্ম ও খেলাধুলা…

2 সপ্তাহ ago

হস্তমৈথুনের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং মুক্তির উপায়

হস্তমৈথুন (Masturbation) কি? হস্তমৈথুন বা স্বমেহন (Masturbation)  হচ্ছে এক ধরণের বিকৃত যৌনক্রিয়া।যা শয্যাসঙ্গিনী/সঙ্গী ছাড়া হাত কিংবা সেক্সটয় এর মাধ্যমে নারী/পুরুষ যৌনসুখ উপভোগ করার চেষ্টা করে…

2 সপ্তাহ ago

বাবার বিয়ে(শেষ পর্ব)নুসরাত মাহিন

গল্পঃবাবার বিয়ে(পর্বঃ১০) লেখাঃনুসরাত মাহিন মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে মাকে মনে পরে আমার মাকে মনে পরে। দেখতে দেখতে…

2 সপ্তাহ ago